সে কালের গল্প কথা - ইউসুফ ইসলাম - bangla new golpo 2018 - ( গল্প কথা কাব্য গ্রন্থ ) - বাংলা নিউ গল্প ২০১৮ সাল - bangla golpo - বাংলা গল্প।

                                                          


                                         " সেকালর গল্প কথা
                                            " ইউসুফ ইসলাম  "



আজ থেকে বহু বছর পূর্বের কথা। আবহমান গ্রাম বাংলার ছোট্ট একটি গাঁয়ে হাতে গোনা
কয়েকটি বাড়ি মাত্র। তখন কার সময়ে অভাবের সংসার ছিল প্রায় সকলের। এমনি একটি পরিবারের
এক মাত্র ছোটো ছেলে ইয়াকুব। অভাবের সংসার বলে কথা , খাজনার দায়ে তার বাবা-মাকে
ভিটে মাটি ছারতে হলো জমিদারের কথায়। ইয়াকুবের তখন কৈশর কাল , বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে
গাছ তলাতে আস্রয় নিতে হলো তাকে। বছর খানিক পার হতে না হতেই কলেরায় তার বাবা মা
দুজনকেই চিরতরে হারাতে হলো ইয়াকুবের। এখন সে বড্ড একা হয়ে গেছে , আপন বলতে আর
কেউ বেচে নেই পৃথিবীতে , এমন অবস্থায় চোখের জ্বলো সংঙ্গ ছেড়ে দেয়। বাবা-মায়ের মৃত্যুর
শোকাহত ইয়াকুব সতত বিরলে শুধুই কাদে আর নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকে দুরাকাশে পানে।পাশের
গাঁয়ে দুঃসম্পর্কের এক চাচা শহরে রাজসভায় বৈদ্বের সহকারীর কাজ করে। তার নাম কবির
শেখ। তার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় ইয়াকুবের ভারসম্বহীন দুরাবস্থা দেখে কবির সাহেব ইয়াকুবকে
সংঙ্গে নিয়ে শহরে চলে যায়। কবির শেখ ইয়াকুবকে নিজের সন্তানের মতো ভালবাসে এবং সবার নিকট
নিজের পুত্র হিসাবে পরিচিত করেন , তাছাড়া যেখানে যায় সেখানে ইয়াকুবকে সংঙ্গে নিয়ে যায়।
তার কপালে এ সুখের ছায়াটাও বেসি দিন রইল না। ছমাস অতিবাহিত হতে না হতেই কবির সাহেব
বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ইয়াকুব এখন একেবারে ভেঙ্গে পরেছে , এখন সে কি করবে ,
সোকাহত হৃদয় নিয়ে ঘরে চার দেয়ালের মাঝে নিরবে চোখের জ্বল ফেলে। কবির শেখের কোনো পুত্র
সন্তান ছিল না , অপর দিকে ইয়াকুবের ভারসম্য হীন অবস্থা দেখে রাজসভা থেকে কবির শেখের স্থানে
ইয়াকুবকে নিয়োগ করা হয়। ইয়াকুবের কাজের প্রতি কোনো প্রকার অনিহা নেই , মন দিয়ে কাজ 
 করতে থাকে ---------------। পাঁচ কি ছমাস এমনি - মত - কাটে , হঠাৎ এক দিন রাজবাড়িতে ডাক পড়ল
রাজকন্যার চিকিৎসার জন্য। পুরো বাড়িতে শোর - গোল পরে গেছে , দেখে যেন মনে হয় কারো  বুঝি যায়যায় 
অবস্থা। কিন্তু ভীতরে প্রবেশের পর ইয়াকুব না হেসে আর থাকতে পারলো না। তাছাড়া হাসিই বা পাবে না কেন ?
হোঁচট লেগে পাঁয়ে সামান্ন একটু ছিলে গেছে। তার হাসি দেখে সকলের চোখে বিষমিত ভয়ের আভা ফুটে উঠেছে। 
আখি করি লাল রাজা ক্ষন কাল রহীলেন মৌনভাবে পরিশেষে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলিলেন কারারুদ্ধ কর একে , 
এত বড় আসপর্ধা আমার মেয়ের কান্না দেখে ওর কি না হাসি পায় ? অন্ধকারা নিবাসে বছর দুই কি তিন এমনি মত 
কাটে। একদিন রাজসভায় হঠাৎ নবাব দুদুখানের রাজদূতের আগমন ঘটল। তাহার অধীনে অনেকটি রাজ্যো 
রয়েছে , তদ্ব্যধে এ রাজ্যোও রয়েছে। তিনি ক্ষমতাসিন নবাব , তার সেনা সৈন্যের কোনো অন্ত নেই আর অনেকটা
ক্ষিপ্ত ও বদ মেজাজি মনের মানুষ তবে নীতিবান। নবাব তার রাজদূতকে দিয়ে পত্রের মাধ্যমে বলেন , শুনেছি
আপনার রাজ্যে নাকি বড় বড় পন্ডিত আর জ্ঞানি জনের বাস , ততপর আপনি জবাব দিন যে , পর-আপন আপন-পর 
শহুইরা কুকুরের তারায় সভার প্রধান হবে কেন গাধা ? আপনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তবে এর সঠিক উত্তর দিন।
উত্তর দিতে পারলে আপনার জন্য ৭ বছরের রাজস্য মৌকুপ করা হবে , আর উত্তর দাতার জন্য রয়েছে মুসলিম 
হলে তার সাথে আমার কান্নার বিবাহ দয়া হবে,  অতঃপর বিধর্মি হলে দুটি রাজ্যো তাকে দেয়া হবে। আর যদি সঠিক 
জবাব দিতে না পারেন তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি ও দুর্গতি, আর সময় শীমা 
দেয়া হলো দুবছর। এর পর নবাবের রাজদূত বিলম্বহীনাই চলেগেল। অন্যথায় রাজা ইলিয়াছ বড্ড সংকটে পরে গেল,
মনে হলো যেন তাহার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো , সে এখন কি করবে অথবা তার কি করা উচিত ? কোনো কিছুই 
বুঝে উঠতে পারছেনা। কী হবে এখন ? সকলেই ভীষণ চিন্তিত তাদের চোখে মুখে ভেসে উঠেছে ভীথস্ত আভা। ক্ষনিকের 
তরে রাজসভা একে বারেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অতঃপর এই সিদ্ধান্তে উওনিত হলেন যে , উত্তর দাতার সাথে শীয়ো 
কান্নার বিবাহ দেয়া হবে। ততপর মন্ত্রির দায়িত্বে সারা রাজ্যো বাসির নিকট তা বিস্তারিত ভাবে জানানো হলো। সপ্তাহ 
খানিক পার হয়ে গেল কিন্তু কোনো উত্তরের নাগপাশও খুজে বের করতে পারছেনা। এমনতাবস্থায় ইয়াকুবের 
মাথায় এক মস্ত বড় ভুত চেপে বসল , যার ফলে হঠাৎ চ্যাঁচ্যাঁতে শুরু করল। দাররক্ষীরা তার চিৎকার চ্যাঁচামেচি
সুনে কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল , কি হয়েছে চিৎকার করতে ছিলে কেন ? ইয়াকুব :- সুনলাম মহারাজ না কি মহা 
বিপদে পরেছে ? দাররক্ষী :- হ্যা তুমি ঠিক সুনেছ। কিন্তু তুমি চিৎকার করতে ছিলে কেন ? এমনিতেই মাহরাজ 
ভীষণ দুষচিন্তায় আছেন, তিনি সুনতে পেলে না, তোমার ছের নিয়ে নেবে। ইয়াকুব :- তা তো ভেবে দেখিনি , হ্যা তবে
একটি কথা আছে ? দাররক্ষী :- কি কী কথা ? ইয়াকুব :- কথাটি হলো , আমি চাইলে এই বিপদ থেকে মহারাজকে 
উদ্ধার করতে পারি। কিন্তু এমনটি আমি কেন করব ? আমার কী লাভ ? সে তো পরম জোসে দিন কাটাবে , 
হারাতে হবে না কিছু তার অথচ , আমি পচে মরব এই অন্ধ কারায়। এই বলে সামনে থেকে সরে , পিছনের দিকে
এক কোনে কাথ হয়ে সুয়ে পড়ল। অতঃপর দাররক্ষী এক সেনার মাধ্যমে রাজসভায় এই সংবাদটি পাঠিয়ে 
দেয়। মহারাজ বিস্তারিত সুনে , তাতক্ষনিক সেনাপতিকে আদেশ করলেন , আগামিকাল কারারুদ্ধ ইয়াকুবকে
যেন রাজসভায় উপস্থত করা হয়। ক্ষানিকটা প্রশান্তির হাওয়া এসে সকলের হৃদয়টা ছুয়ে যেন দোলা দিয়ে গেল। 
পরদিন ইয়াকুবকে হাজির করা হলো , আজকে সকলেই সকাল-সকাল রাজসভায় উপস্থিত হয়েছে। ইয়াকুব
মনেমনে ভীষণ ভীতস্থ , কে জানে কী হবে ? তবে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ যে , অন্ধকারায় পচে মরার চেয়ে মুক্তির
ফন্দীতে ধরা পরে মরে যাওয়াও ভালো। এখন তার জীবন মরনের প্রশ্ন এখানে তার যথা সাবধানে পাঁ বাড়াতে
হবে , ভুলের কোনো সুযোগ নেই। মাহরাজ :- তুমি কি প্রশ্নের সঠিক দিতে পারবে ? ইয়াকুব :- জি হ্যা। একটু সময়
নিয়ে বললো। মহারাজ :- তবে বলো দেখি ? ইয়াকুব :- আগ্যে মহারাজ আমায় মাফ করবেন , আমি বলতে পারি
কিন্তু অনার্থে কাউকে জানাতে চাই না। মহারাজ ক্ষনকাল আখি করি লাল রহীলেন মৌনভাবে অতঃপর ক্রদ্ধকে
সংযত করি বলিলেন তিনি , কেন বা কোনসে কারনে ? ইয়াকুব :- মহারাজ আপনি বলুন , আমি কিসের তরে
বলতে পারি ? এ্যকে আমি কারারুদ্ধ , তাছাড়া এখানেই যদি উত্তর বলে দেই তাহলে আমার কি লাভ ? সভার
পন্ডিতেরা তার কথায় সায় দিল সাথে আরও বল্লো এতে তার জীবনেরও সংসয় হতে পারে। একে গোপনে
পাঠিয়ে দেয়াটাই ভালো শুধু বিশ্বস্থ কয়েক জন সেনার মাধ্যমে এই রাজ্যো পার করে দিতে হবে যেন , কেউ জানতে
না পারে উত্তর দাতা কে  পাঠানো হইতেছে উত্তর দেয়ার জন্য। মহারাজ :- তবে তাই করা হোক, এছাড়া তো আর 
কোনো পথও খোলা নেই। যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও গোপনীয়তা অবলম্বনের মাধ্যমে আলোচনা শেষ করে ইয়াকুবকে 
পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো। তার সংঙ্গে যে সৈন্য এসেছিল তারা তাদের রাজ্যো পার করে দিয়ে পথ দেখিয়ে চলে
গেল। ইয়াকুব :- বড় বাঁচাবেঁচে গেলাম। নবাব দুদুখানের রাজ্যে প্রবেশ করে। অতঃপর একটি মোদী দোকানে
চাকরি জোগাড় করতে সক্ষম হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে পছন্দমত একটি মেয়ে বিয়ে করে সংসার সাজাতে
শুরু করে। মেয়েটি নাম তাজনুবা। বাসাবাড়ি হতে দোকানে যাওয়ার পথে ছোট্ট একটি ফলের দোকান আছে ,
যেখানে সে অবসর সাময় কাটায় এবং দোকান হতে ফেরার সময় ঐ দোকান থেকে রোজ কিছুনা কিছু ফল 
কেনাকাটা করে বাসায় ফিরে। এভাবেই কাটতে থাকে তার সুখের দিন গুলো। এক দিন অবসর সময়ে সেই ফলের 
দোকানে বসে চিনা বাদাম খেতে খেতে গল্প করতেছে।( ফল ব্যবসায়ীর নাম হলো কাসেম , তার বয়স কম 
করে হলেও ৫০ বছর হবে , তাই ইয়াকুব তাকে চাঁচা বলে ডাকে ) তখন হঠাৎ করেই দোকানের টোং ( মাচাল /কার ) 
হতে ঘুনে খাওয়া একটি কাঠ কাশেম চাঁচার মাথা ও ঘারের উপরে আচড়ে পরে। 





Post a Comment

0 Comments