bedonar chaya - usuf islam - bangla new golpo - গল্প কথা কাব্য 2018 . বাংলা নিউ গল্প ২০১৮ সাল।

       

                                               " বেদনার ছায়া "     
                                              " ইউসুফ ইসলাম "



কিছু ফুল আছে যা কখনো ফোটেনা অকালই ঝোরে যায়। তেমনি কিছু আশা

-স্বপ্ন থাকে যা কোনো দিন পূরন হয়না , অপুষ্ট গোলাপ কুডির মতো অকালেই

ঝোরে যায়। সে সব আশা আর স্বপ্ন শুধু আশা আর স্বপ্নই থেকে যায় , পূর্নতা পায়না।

এমনি এক জন যার নাম হলো প্রভাত। তার ভালবাসার আকাশ এখন বদনাতে নীল, তার ললাটে কি নির্মম পরিহাস

ছিলো যাকে সে পাগলের মতো ভালবাসতো যাকে নিয়ে তার সমস্ত চিন্তাচেতনা ছিলো সেই তার বুকে হানিলো আঘাত। 

 সে যেন নিসতেজ হয়ে গেলো, অথচ তা কেহ জানতে বা বুঝতেও পারলো না, কারন পাহারের তো থাকেই শুধু চাপাকান্না 

যা সবার অন্ততরালেই থেকে যায় কারো দৃষ্টিগোচর হয় না। নিয়োতির আঘাত নিরবে সয়েগেল যেন সাগরেরি তীর হয়ে রইল। 

যাই হোক আজ থেকে ১০ বছর পূর্বের কথা ২০০২ সাল তখন প্রভাতের বালল্য কাল।

প্রভাত :- ঈদুলআযহার প্রায় এক মাস পূর্বের কথা , আমাদের বাড়িতে একটি মেয়ে এসেছিল।

আমাদের পরিবারের সাথে কোনো এক সম্পর্কের কারনে মেয়েটি আমার মামাতো বোন হয়।

তার নাম ছিল চাঁদনী। চাঁদনী শহরে থাকে , গ্রামের বাড়িতে ছুটির দিন গুলো কাটাতে আসে।

তার গায়ের রং ফরসা নয় তবে দেখতে অনেক মিষ্টি। গরনটা ছিপছিপে , মুখটি যেন

চাঁদের মতো , মায়াবি তার চোখ দুটি ,  ঠোট দুটি যেন গোলাপের পাপড়ি।

প্রভাত : চাঁদনীর সাথে আমার যখন প্রথম দেখা হয় , আমি তখন ফুল গাছের পরিচর্যা

করতে ছিলাম। চাঁদনীর সাথে প্রথম পর্যায় ততটা মিসতাম না , করন আমি ইথসতো বোধ করতাম।

তবে চাঁদনী ছিল তার ঠিক বেতিক্রম ধর্মি। দুরে সরে থাকতে চাইলে তখন সে আরও বেশি নিকটে আসতো

আর সব সময় হাসি খুসি প্রনচঞ্চল থাকতো। কিছুদিন পর না চাইতেও সে আমার অনেকটা আপন হয়ে উঠে ।

জানিনা কী কারনে ব্যাডমিন্টন খেলতে , গল্প করতে , পাশাপাশি পথ চলতে এমন কি এক সাথে

খেতেও ভালো লাগতো । এভাবেই কাটতে থাকে দিনের পর দিন । যে চাঁদনীর সাথে কথা বলতে ইথস্থবোধ

করতাম অথচ এখন সেই চাঁদনীকে অন্যকারো সাথে দেখলে হৃদয় মাঝে তোলপার সুরু হয়ে যায় ।

একদিন সন্ধারাতে আমি , চাঁদনী , বসার , করিম , মুন্না বসে গল্প করতে ছিলাম হঠাৎ মুন্না চাঁদনীর

কধে হাত দিয়ে কথা বলে , আমি সেটা সইতে পারিনি । মেনেনিতে পারছিলামনা কিছুতেই ,

তখন কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে প্রসংগোটা ঘুরিয়ে সবাইকে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দিলাম ।

কারন আমি চাঁদনীকে ভালবাসি । আর কতটা ভালবাসি তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

তাছাড়া কোনো প্রমাণও দিতে পারবনা আমি। শুধু জানি আমি তাকে ভালবাসি আর কখন যে তাকে

এতটা ভালবেসেছি তা কখনো বুঝতেও পারিনি। এতোটা যে তাকে ভালবেসেছি মুখ ফুটে আজো বলতে

পারিনি সে কথা , পাশা পাশি পথ চলেছি , কাছাকাছি থেকেও বোঝাতে পারিনি তাকে ভালবেসেছি।

তবে হ্যা , চাঁদনী এমনিতেই আমায় নিয়ে মেতে থাকতো সারাক্ষন। এভাবেই কেটে গেল বছর দুই কি তিন।

একদিন চাঁদনী আমায় বলে , প্রভাত ভাইয়া আপনি আমায় একটি আর্ট করা ছবি দিবেন।

প্রভাত : মাথা নেরে হ্যা বললাম। ফ্রেমে লটকানো একটি ফুলের ছবি ছিল , সেটাকে খুলে

তাকে উপহার হিসাবে দিলাম। চাঁদনী খুবি খুসি হলো এবং সে যেন আনন্দ ছাপ তার চোখে মুখে ভেষে উঠল।

একদিন বিকেলে চাঁদনী আমার সাথে জমিতে কোলই শাক তুলতে গিয়ে ছিল। কথা বলতে বলতে শাক

তুলতে ছিলাম , এমন সময় আসরের আযান শুরু হলো চার দিক থেকে। চাঁদনী : প্রভাত ভাইয়া

আপনাকে একটি কথা বলি। প্রভাত : ঠিক আছে। চাঁদনী : ভালবাসা কী পাপ ? না না না এখন থাক

একটু পরে বলেন , আযান শেষ হোক। আযান শেষ হবার পর। প্রভাত : ভালবাসা পাঁপ না কিন্তু আবার পাঁপ 

মানে হলো এটা তার মনের উপর নির্ভর করে , তাছাড়া ভালবাসার উত্তম পন্থা হলো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।

পড়ন্ত বিকেল গোধুলি ছড়ান চারদিক, প্রকৃতির রুপ যেন উপচে পড়ছে সে কি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

বলা বাহুল্লো , এমন ক্ষনে যদি মনের মানুষ পাসে থাকে তবে মন মেঘের ভেলায় যেন ভেষে চলে। এবার

আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে সূর্য প্রায় ডোবা ডোবা। আমরা দুজনে বাড়ি ফেরার জন্য হাটতে শুরু করলাম।

চাঁদনী : প্রভাত ভাইয়া একটু গান গাইবেন , অনেকটা মিনতির সুরে। প্রভাত : ঠিক আছে। এর পর কয়েকটি

গান সুনালাম তাকে তবে সেও একটি গান গেয়েছিল। চাঁদনী গ্রামের বাড়িতে আসতো বেসির ভাগ

ঈদ উপলক্ষে বিশেষ করে কুরবানির সময়। গ্রামের বাড়িতে আসলে আমাদের বাড়িতেও আসত প্রত্যেক

বার। তবে বেশির ভাগ সময় আমাদের এখানেই কাটাত। এভাবেই কেটে গেল পাঁচ কিংবা ছয় বছর ,

এরপর এখন আর আসেনা। এখনো আসত তবে যাকে ধরে আসবে সেই তো আমাদের ছেড়ে  চলে গেছে।

তার পর পাঁচ বছর গত হয়ে গেছে কিন্তু তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই , তবে এর মধ্যে শুধু দুই

থেকে তিন বার দেখা হয়েছিল। প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আর বুঝি শেষ হয় না , ২০১৩ সাল এপ্রিল মাস ,

চাঁদনী আমাদের বাড়িতে এসেছে। এ কথা শুনতেই বুকের ভিতর কি যেন একটা নাড়া দিয়ে সারা শরিল আচমকা

সিউরে উঠল। সাথে সাথেই কোথা থেকে যেন অজানা সুখ এসে বুকের ভিতর বাসা বাধল। চাঁদনীকে দেখার

জন্য আর তর সইছিল না , শুধু একটি পলক দেখার জন্য। চাঁদনীকে দেখার পর শ্বস্তির শ্বাস পেলাম ,

বুকটা যেন প্রশান্তর হাওয়ায় শীতল হয়ে গেল। প্রভাত : কেমন আছ তুমি ? চাঁদনী : ভালো আছি। আপনি

কেমন আছেন ? প্রভাত : ভালো আছি। তুমি কখন এসেছ ? চাঁদনী : এই তো একটু আগে। এখন

আমাদের চলে যেতে হবে বাড়িতে কাউকে বলে আসিনি , বাড়িতে সবাই দুসচিন্তা করবে। চাঁদনীর সাথে

আরেকটি মেয়ে ছিল , মেয়েটি সম্পর্কে তার বোন হবে হয় তো। প্রভাত : না না এখন কোথায় যাবে এই

দুপরবেলা , বিকেলে যেয়ো। চাঁদনী : এই সেরেছে , সাথের মেয়েটি বোললো তাহলে তুই্ থাক , আমি চলে যাই।

চাঁদনী : না ভাইয়া এখন থাকার কোনো উপায় নেই , অন্য একদিন এসে থাকব। এই বলে চাঁদনী মেয়েটিকে

নিয়ে চলে গেল। তার সাথে তেমন কোনো কথা বলতে পারিনি। তার পর আর কখনো দেখা হয়নি আর দেখা

হবে কিনা তাও জানিনা। তার চেয়ে বড় কথা হলো এখন আর চাঁদনী সেই আগের মতো নেই , অনেক

বড় হয়ে গেছে সাথে পরিবর্ত হয়ছে মন মানুষিকতার সময়ের ব্যবধানে। আমি বড্ড দুসচিন্তায় পরে গেলাম ,

এখন আমি কি করব , কী করা উচিৎ ? এখন যদি মনের কথা না জানাই তাহলে হয় তো আর জানাতেই

পারবনা। তাছাড়া সেও তো মানুষ , তারও তো একটি মন আছে , সেও তো কাউকে ভালবাসতে পারে।

এমন কি আমাকেও , কিন্তু আমার মতো সেও বলতে পারেনি। বিভিন্ন চিন্তায় মন অস্থির হয়ে পরল ,

তার পর ঠিক করলাম চাঁদনীকে সব খুলে জানাতে হবে। কিন্তু কিভাবে জানাব , আমি যে তার সামনে গিয়ে

এ বিষয় কিছুই বলতে পারব না তাছাড়া কিভাবে 
ভলতে হয় , বোঝানোর অথবা বলার ধারনা কোনোটাই

আমার জানা নেই , তার থেকেও বড় কথা এ সব আমার দারা হবে না। কয়েক দিন পর চাঁদনীর মৌবাইল

নম্বর যোগার করলাম , তার পর একটি এস. এম. এস. করলাম। এস. এম. এস. পাওয়ার পর চাঁদনী

একের পর একের ফোন দিতে লাগল , আমি তখন আতংকিত হয়ে গেলাম ,  আমি এখন কি করব।

কয়েক বার কল রিসিভ না করে , কয়েক বার কেটে দিয়ে কলব্যগ করলাম , ফোন রিসিভ করল।

চাঁদনী : সালাম দিল। আপনি কে ? প্রভাত : সালামের জবাব দিল। আমাকে চিনতে পারলেনা , আমি তো

তোমায় খুভ ভালোকরে জানি , তোমার নাম চাঁদনী ঠিক বলেছিত। চাঁদনী : দেখুন আমি আপনাকে চিনতে পারিনি

দয়া করে আপনার পরিচয়টা কি দিবেন ? প্রভাত : কন্ঠ শুনেও চিনতে পারলেনা তো ? আমি প্রভাত।

চাঁদনী : কোন প্রভাত ? প্রভাত : তুমি গতকাল আমাদের বাড়িতে এসেছিলে , এখনি ভুলে গেলে।

চাঁদনী : ও প্রভাত ভাইয়া ! আমি দুঃক্ষিত প্রথমে আপনাকে আমি চিনতে পারিনি। তাছাড়া এর পূর্বে

কখনো মৌবাইলে আপনার সাথে কথা বলা হয়নি তো , তারপর আপনি কেমন আছেন। প্রভাত : ভালো আছি।

তুমি কেমন আছো ? চাঁদনী : আমিও ভালো আছি। এভাবে একটু সময় কথা বিনিময়ের পর ভালো থেকো রাখি

আল্লাহ হাফেয। এর পর কয়েক তিন পর্যন্ত এভাবেই কথা চলতে থাকে। তার পর একদিন বিকেলে

চাঁদনীকে বললাম সময় পেলে আর যদি না পাও তবে সময় করে হলেও একবার আমাদের বাড়িতে এসো।

চাঁদনী : আচ্ছা ঠিক আছে। একদিন দুপুরে ফোন দিলাম , কথা বিনিময়ের পর বললাম তোমায় একটি কথা

বলি কিছু মনে করবে না তো , তোমার ব্যক্তিগত ব্যপারে ? চাঁদনী : ঠিকাছে বলেন। প্রভাত : তুমি কি কাউকে

পছন্দ কর ? চাঁদনী : হ্যা করি। কিন্তু কেন ? প্রভাত : না এমনি। এই বলে ফোন রেখে দিলাম। কথাটি শোনার

পর মনে হলো যেন সকল বেদনা সিক্ত আঘাতে কলিজা তিক্ত হয়ে গেলো। মনের ভিতর মহা 

সাইক্লোন শুরু হলো দুমড়ে মুচড়ে সব কিছু নিশতেজ করে দিলো নিমিসের মাঝে। বাকি আর কিবা রইল

চাওয়া-পাওয়ার , সব কিছুই যেন শেষ হয়ে গেল চোখের পলকে। এত গুল বছর ধরে তিল তিল করে গড়া

ভালবাসার সাজানো বাগান বিনষ্ট হয়ে গেল , সেখানে জন্ম নিল নতুন এক সাহারার প্রান্তর। আজ বড় নিশ্ব ,

ঝড়ে পরা আহত ডানা ভাঙ্গা সংঙ্গি হারা পাখির মত। কেন এমন হলো ? কি ভুল ছিল তার ? নিজেই

নিজেকে প্রশ্ন করে আবার নিজেই উত্তর দেয়। চাঁদনীর মতো মেয়ে কেনই বা তাকে ভালবাসতে যাবে ?

কি বা আছে তার ? না আছে সম্পদ , না আছে দৈহিক গড়ন লম্বা চওড়া আক্রশনিও। সে যে গ্রামের

এক গেয়ো ভূত। এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে যায়। প্রভাত ভেবে ঠিক করল

চাঁদনীকে তার না বলা ভালবাসার কথা যজানাতে হবে , বুঝাতে হবে সে তাকে কতটা ভালবাসে।

তাকে পাওয়ার আসে ব্যকুল হৃদয় প্রতক্ষিত প্রহর গুলোর প্রতিটি ক্ষনে কতইনা অস্রু ঝরিয়েছে

অঝোরে। তাই সে একটি এস.এম.এস. পাঠাল চাঁদনীকে। হিতে বিপরিত হলো , চাঁদনী ভুল বুঝে দুরে

সরে গেল। এখন আর চাঁদনী কল রিসিভ করে না , অপরিচিত নম্বর দিয়ে কল দিলে রিসিভ করে কিন্তু

চেনার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তারপর থেকে একের পর এক ম্যাসেজ পাঠায় , কোনো উত্তর

আসেনা। প্রতিনিয়ত ফোন করার কারনে একদিন চাঁদনী অন্য এক নম্বর দিয়ে ফোন করল। প্রভাত : রিসিভ

করল। চাঁদনী : চিনতে পারেছেন ? প্রভাত : হ্যা। চাঁদনী : শুনুন আপনি আর কখনো ফোন দিবেন না এবং

কোনো এস.এম.এস. করবেন না। আর কি কারনে বা কেন তাও জানতে চাইবেন না। এসব বলে লাইন

কেটে দিল। প্রভাত চুপচাপ শুধু সবকিছু শুনল একটি কথাও বললো না। কিছু কথা আছে কিছু বেদনা

বিথুর আঘাত আছে যা প্রকাশ করা যায় না , তবুও আজো তার পথপানে চেয়ে প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে।

কয়েকদিন পরের কথা , চাঁদনীর প্রচন্ড মাথা ব্যথা ডাকতারের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডাকতার চাঁদনীর

চিকিৎসা করতেছে আর বাকি সকলে সেখানে জরো সরো ভাবে দারিয়ে রয়েছে। সকলেই দুসচিন্তায়

অস্থুর , কেউ প্রলব বোকছে কেউ বলছে হঠাৎ করে একি হলো মেয়েটার , কি হবে এখন ? আবার কেউ

সজোরে কাদছে। প্রভাত সেখানে গিয়ে দেখতে পেল চাঁদনী চিকিৎসালয়ের বিছানায় যন্ত্রনায়

দগ্ধো কাতর অবস্থায় পরে ছটফট করছে। যেন যায় যায় অবস্থা। মুখে কোনো কথা সরে না , মুর্তির ন্যায়

থমকে দাড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। চাপা কান্নায় বুক ফেটে যায় , দুচোখ বেয়ে লোনা জ্বলোরাশি বয়ে চলেছে

অবিরাম ধারায়। কেউ দেখতে পায়নি তার চোখে জ্বল। প্রভাত ভির ঠেলে কিছুটা সামনে গিয়ে দাড়ায় ,

চাঁদনী মায়াবী দৃষ্টিতে প্রভাতের দিকে তাকায়। প্রভাত আর দাড়িয়ে থাকতে পারছে না চাপা কান্নায়

দম বন্ধ হয়ে আসতেছে। প্রভাতের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বিছানা ছেরে সোয়া থেকে উঠে সোজা বসে পরে।

এখন অনেক গভীর রাত সকলেই ঘুমিয়ে আছে চার পাশে কোনো সাড়া শব্দ নেই। এ কেমন স্বপ্ন দেখল সে ?

তবে কী চাঁদনীর কোনো খারাপ কিছু হলো , বুকের ভিতর কেমন যেন করছে আর শুধুই দুচোখ বেয়ে পানি পরছে

ঘুম আসেনা। ব্যথিত হৃদয়ের আর তর সইতে পারছেনা , কেমন আছে জানতে চেয়ে এস.এম.এস. করে

ফোন করে একের পর এক। কোনো উত্তর আসে না। এস.এস.সি.পরিক্ষার ফল প্রকাশ হবে , চাঁদনীর পরিক্ষার

ফল জানার জন্য , তার রোল নং জানতে চেয়ে ম্যাসেজ পাঠায়। ফল পোকাশের পরও ফোন করে ম্যাসেজ

পাঠায় কিন্তু কোনো জবাব আসে না। প্রভাত এখন মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছে। একদিন প্রচুর পরিমানে

নামতে ছিল এমন ক্ষনে শুধু তারেই মনে পরে যাকে ভালবাসে। প্রভাত চাঁদনীকে একটি ম্যাসেজ পাঠায় ,

চাঁদনী ফোন করল।  প্রভাত লাইনটি কেটে দিয়ে। কি যন এক ভালোলাগায় মনের ভিতর নারা দিয়ে উঠল ,

হঠাৎ করে সারা শরিল আচমকা চোমকে উঠল এক অজানা ভয়ে। কি ব্যপার চাঁদনী কল দিলো বোকবে

নাকি , না অন্য কিছু ? সে যাই হোক প্রভাত চাঁদনীকে কল দিলো। চাঁদনী : হ্যালো। আপনার কি কোনো

কাজ নেই ? দিন রাত এস.এম.এস. করতে থাকেন , কল দিতে থাকেন আপনার জন্য আমি ঠিক মতো ঘুমতে

পারিনা। তাছাড়া আপনার জন্য আমাদের পরিবারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে , বাবা মা রাগ করছে আমায়।

চাঁদনীর মা : কে ফোন করেছে কার সাথে কথা বলছিস ? চাঁদনী : চিনলে কি এভাবে কথা বলতাম না কি ?

প্রভাত নিরবে সব শুনছে। চাঁদনী : কি ব্যপার আপনি কিছু বলছেননা কেন ? শুনতে পাচ্ছেননা আমি

কি বলছি নাকি ? প্রভাত ফোন রেখে দিল। কেন এমন হলো ? তবে কি প্রভাত ভুল করেছে চাঁদনীকে ভালবেসে।

নাকি তার নিরবতা , নিরব অভিমান , মুখ ফুটে কিছু বলতে না পারা , নাকি সব কষ্ট সহ করে নিরবে চোখের

জ্বল ফেলা এসবি তার ব্যর্থতার জন্য দায়ি। প্রভাত তো শুধুই ভালবাসা চেয়েছে তেমন কিছু চায়নি

যার জন্য চাঁদনী ভুল বুঝে করবে আঘাত বার বার। প্রভাত জোর করেনি ভালবাসার জন্য , সে তো আগের

মতোই থাকতে চেয়েছিল , কিন্তু তাও হলো না। এযে কত বড় যন্ত্রনাদয় তা বোঝাবার মতো কোনো ভাষা

জানা নেই আমার। সত্যি কথা বলতে কি যে সমস্থ মানুষেরা নিজের জন্য কি চায় , পছন্দ অপছন্দ মনের

কথা প্রকাশ করতে না পারে তাদেরকে ব্যবহার করতে পারে সবে। কিন্তু তাদের সঠিক মর্যাদা দিতে পারে

কজোন। তারা কাউকে কিছু বলতে পারে না সবকিছু নিরবে সয়ে যায়। গোধুলির রং ছড়ানো উদাসি বিকেল

পেরিয়ে রাত্রি যখন বয়ে আনে আধার , তখন সকলে ফিরে আসে নিরে শান্তির ঘুমে কাটাবে রাতটাকে।

প্রভাতের জীবনে সেদিন আর আসবে ফিরে। কালের আবর্তে হয় তো একদিন সাহারার বুক ফেটে

বেরিয়র আসবে পানির ফোয়ারা। কিন্তু প্রভাতের এ বেদনা বিথুর ভালবাসার কথা কোনো দিন ভুলতে

পারবে না , এযে ভোলার নয়। আজো সে প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে। হয় তো তার প্রতিক্ষার প্রহর আর

কোনো দিন শেষ হবে না। আর চাঁদনীর কথা সে হয় তো সুখেই আছে , কারন সে যাকে পছন্দ করত

তার সাথেই তার বিয়ে হয়েছে। চাঁদনী অবস্য বিয়ের পর প্রভাতের সাথে একবার দেখা করতে এসেছিল।


এর মাঝে একদিন রূপকাহিনির মতো এক রোমাঞ্চকর স্বপ্ন দেখে সেটাকে নিয়ে এক কবিতা লিখে। কবিতাটি ,

               " স্বপ্নের কথা "
     
মনে মনে ভাবি যারে দেখা হলো তাহার সনে '
হাটের ভীরে দোকানের পাশে দাড়িয়ে ছিল সে
ফুল ভীজানোর সমে জল ছিটিল তাহার মুখে,
কিছু বলিলোনা সে, রইল দাড়িয়ে একটু সরে। 
কোথা থেকে একটি আওয়াজ, আসিল ভেসে
           ভীরের মাঝে কেবা খুজে
করিলে পঁরশ এই ক্ষনিকের মাঝে
               ভালবাসে সে যাকে। 
হাটছিলাম পথটি ধরে
        
               একটি শিশু ছিল মোর সাথে
ধরিয়া হাত চেয়েছিনু চলিতে সামনে, 
                সেই মেয়েটি দৌরে এসে
হামারি হাতে পঁরোশ করে
               লোক দেখানো শিশুকে ধরে
সেই কথাটি শুনে,
             ভালবাসা মিলে যাবে তাহাকে ছুলে। 
বহু দিন বাদে হাটের মাঝে
             চোখে চোখ পরল দুজনাতে
চলিতে ছিনু সেই পথটি ধরে
           গাড়িতে বসেছিল সে
মৃদু হাসির ঝলোকে উকি মেরে তাকাল হামারি দিকে। 
              তবে এই কি সেই ?
লোক দেখানো শিশুকে ধরে 
                  ছুয়েছিল হাত স্বপ্নের মাঝে। 

            ( গল্প কথা কাব্য ) 


         গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ
         পুনরায় আবার আসবেন
          নতুন নতুন গল্প / কবিতা
           দেখা বা পড়ার জন্য
            অগ্রিম ধন্যবাদ সবাইকে। 

Post a Comment

0 Comments